গর্ভাবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা যাবে কি ?
গর্ভাবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা যায় কি ?
একটি মেয়ে বা একটি মা যখন গর্ভবতী হয়, তখন তাকে অনেক সাবধানে থাকতে হয় । অনেক
সাবধানে চলাফেরা করতে হয় । তাকে সব সময় সুস্থ থাকতে হয় । আর প্রতিটি নারী তার
গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকতে চাই কিন্তু দেখা যাচ্ছে অনেক সময় অনেক সমস্যা দেখা দেয়
।
তাই গর্ভাবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করলে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে থাকে । অনেকের সমস্যা থাকার কারণে ডাক্তাররা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে নিষেধ করে । আর যদি আপনি সুস্থ থাকেন তাহলে সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না ।
পেজ সূচিপত্র ঃ গর্ভবতীর সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা সম্পর্কে আজ আমরা যা জানতে পারবো তা হল
- গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক থাকুন
- সিড়ি দিয়ে উঠানামা করা যাবে
- রেলিং ধরে চলুন
- দৃষ্টি রেখে চলুন
- ধীরে ধীরে চলুন
- সঠিক জুতো পায়ে চলুন
- স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যাবে
- পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে
- ব্যায়াম করতে হবে
- সিজারের পর রেস্ট করতে হবে
- সিজারের পর সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা যাবে না
- শেষ কথা
গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক থাকুন
প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন সে একদিন মা হবে । আর প্রতিটি মেয়েই দিনশেষে একদিন মা
হয় । এই মা হওয়ার জন্য তাকে অনেক কষ্ট পার করতে হয় । একটি মেয়ে দশ মাস
গর্ভধারণ করার পর একটি বাচ্চার জন্ম দেয় । আর এই দশ মাস তাকে অনেক কষ্ট সহ্য
করতে হয় । অনেকেই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চান কিন্তু নানা সমস্যার কারনে
করতে পারেন না ।
কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় । অনেকের মাথা ব্যথা
করে, অনেকের পেট ব্যথা করে, অনেকের কোস্টকাঠিন্য সমস্যা হয়, অনেকের বমি বমি
ভাব হয়, আবার অনেকে অনর্গল বমি করে । তাই একটি মেয়েকে দশ মাস অনেক কষ্ট সহ্য
করতে হয় । আবার অনেকে দশ মাস স্বাভাবিক জীবন যাপন করে । আমাদেরকে চেষ্টা করতে
হবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার ।
সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা যাবে
গর্ভাবস্থায় আমরা অনেকেই চিন্তা করি এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না । আসলে
এটা ঠিক নয় । আমরা চাইলে স্বাভাবিক জীবন যাপন কাটাতে পারি । সিঁড়ি
দিয়ে ওঠানামা করলে কোন ধরনের কোন সমস্যা হবে না । তবে উঠানামা করার সময়
সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে । অর্থাৎ সিড়ি দিয়ে উঠানামা করার সময় দেখে শুনে
চলাফেরা করতে হবে ।
এমনকি রাস্তায় চলার পথেও দেখেশুনে হাঁটা চলা করতে হবে । কারণ হঠাৎ যদি পড়ে
যান তাহলে বাচ্চা এবং মা দুজনারি ক্ষতি হতে পারে । তাই গর্ভাবস্থায় সবকিছু করা
যাবে কিন্তু সাবধানে করতে হবে । যাতে করে কোন সমস্যা না হয় । তবে
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা না করাই ভালো । সবকিছু করার আগে
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করতে হবে ।
রেলিং ধরে চলুন
গর্ভাবস্থায় একটি মা কে বা একটি নারীকে অনেক সাবধানে চলাফেরা করতে হয় ।
গর্ভাবস্থায় যদি কোন সমস্যা না থাকে, ডাক্তার যদি পরামর্শ দেয়, তাহলে
আপনি সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করতে পারেন । কোন সমস্যা নেই কিন্তু সে যদি সিঁড়ি
দিয়ে চলাফেরা করার সময় বা উঠানামার সময় রেলিং ধরে আস্তে আস্তে নামতে
পারেন তাহলে কোন কিছু হবে না ।
তাই যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করলে আপনার কোনরকম
সমস্যা হবে না । সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা একটি ব্যায়ামের মত । গর্ভাবস্থায়
ব্যায়ামেরও প্রয়োজন রয়েছে । তাই আপনার শরীর যদি সুস্থ স্বাভাবিক থাকে তাহলে
আপনি সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারেন । এতে আপনার শরীর আরো ভালো থাকবে, সুস্থ
থাকবে ।
দৃষ্টি রেখে চলুন
গর্ভাবস্থায় চলাফেরা অনেক সাবধানে করতে হয় । কারণ পড়ে গেলে বা হোঁচট খেলে
আপনার এবং আপনার বাচ্চার দুজনারই ক্ষতি হতে পারে । তাই দুজনেই ভালো এবং সুস্থ
থাকার জন্য আপনাকে সাবধানে চলাফেরা করতে হবে । অর্থাৎ দেখে শুনে চলাফেরা করতে
হবে । তাই গর্ভাবস্থায় বলা হয় দৃষ্টি রেখে চলাফেরা করুন ।
দৃষ্টি রেখে চলাফেরা করুন অর্থাৎ চোখ দিয়ে দেখে আপনি চলাফেরা করুন । ভাঙ্গা
রাস্তায় বা উঁচু-নিচু জায়গায় চলাফেরা করার সময় চোখ দিয়ে দেখে চলাফেরা
করবেন । কারণ আপনি উঁচু-নিচু জায়গায় বা ভাঙ্গা রাস্তায় যদি পড়ে যান তাহলে
আপনার এবং আপনার সন্তানের ক্ষতি হবে । তাই ভালোভাবে দেখে শুনে চলাফেরা করতে হবে
।
ধীরে ধীরে চলুন
গর্ভাবস্থায় চলাফেরা করার সময় অনেক ধীরে ধীরে বা আস্তে চলাফেরা করতে হবে ।
এতে করে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে । এ সময় শরীর অনেক খারাপ করে, অনেকের
শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, অনেকের মাথা ঘুরে । তাই এ সময় চলাফেরা করার সময়
অনেক আস্তে আস্তে চলাফেরা করতে হয় ।
এ সময় চলাফেরা করার সময় একদম তাড়াহুড়া করা যাবে না । কারণ তাড়াহুড়া করে
কখনো কোন কাজ ভালো হয় না । তাই তাড়াহুড়া না করে আস্তে আস্তে বা
ধীরে ধীরে চলার চেষ্টা করবেন । এতে আপনি লাভবান হবেন । কারন তারাহুড়ো করতে গিয়ে
যদি পড়ে যান তাহলে আপনার ক্ষতি হতে পারে ।
সঠিক জুতো পায়ে চলুন
গর্ভাবস্থায় চলাফেরা করার সময় অবশ্যই সঠিক জুতো পায়ে দিয়ে হাঁটবেন । অর্থাৎ
আপনি যে জুতো বা স্যান্ডেল পায়ে আরাম পান সেই স্যান্ডেল জুতা পরিধান করবেন ।
সেক্ষেত্রে আপনি হাঁটার ক্ষেত্রে আরামদায়ক লাগবে এবং ধীরে ধীরে হাঁটতে পারবেন
। তাই বলা হয় গর্ভাবস্থার সময় চলাফেরা করার জন্য অবশ্যই আরামদায়ক জুতো
ব্যবহার করবেন ।
আরও পড়ুন ঃ গর্ভাবস্থায় কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত ?
এতে করে উস্টে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না । এ অবস্থায় উঁচু হিল বা
স্যান্ডেল পড়া উচিত নয় । কারণ উঁচু স্যান্ডেল পড়ে আপনার পড়ে যাওয়া সম্ভাবনা
থাকে । এতে হিতের বিপরীত হতে পারে । তাই অবশ্যই নিচু স্যান্ডেল পড়ার অভ্যাস
করবেন । নিচু স্যান্ডেল পড়লে যেমন আরাম পাবেন, তেমনি পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে
না ।
স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যাবে
গর্ভাবস্থায় আপনি স্বাভাবিক সব খাবার খেতে পারবেন । তারপরেও ডাক্তারের সঙ্গে
পরামর্শ করে নিতে পারেন, যে কোন কিছু খাওয়া নিষেধ আছে কিনা । আমার জানা মতে
দুই একটা জিনিস ছাড়া সব জিনিসই ডাক্তার খেতে বলে । বিশেষ করে পুষ্টিগুণে
সমৃদ্ধ খাবার বেশি বেশি করে খেতে বলে ।
গর্ভাবস্থায় এমন হয় যে স্বাভাবিক খাবারও খাওয়া যায় না । অনেকের বমি ভাব
আসে, অনেকের খাবারে অরুচি আসে । তাই অনেকেই গর্ভাবস্থায় সঠিকভাবে খাবার খেতে
পারে না বা যতটুকু খাবার প্রয়োজন ততটুকু খেতে পারেনা । তাই ডাক্তারের পরামর্শ
নিয়ে আপনি স্বাভাবিক সকল খাবার খেতে পারেন । অনেকে খাবার অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে
।
পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে
গর্ভাবস্থায় আপনাকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার বেশি বেশি করে খেতে হবে । যেমন
দুধ, ডিম, ফলমূল, খেজুর এসব খাবার খেলে আপনার শরীরে পুষ্টি পাবে । আবার
আপনার পেটের বাচ্চাও পুষ্টি পাবে । তাই গর্ভাবস্থায় আপনাকে প্রচুর পরিমাণে
পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ খাবার খেতে হবে । যদি পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ খাবার না খান,
তাহলে আপনার পেটের সন্তান দুর্বল হয়ে পড়বে ।
তাই বাচ্চা সুস্থ সবল রাখতে এবং আপনার শরীর সুস্থ রাখতে অবশ্যই আপনাকে পরিমাণ
মতো পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে । আপনাকে প্রতিদিন দুধ, ডিম, খেজুর ইত্যাদি
পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে । তবেই আপনার বাচ্চা পুষ্ঠ হবে বা স্বাভাবিক হবে
। আর আপনার শরীর ও সুস্থ থাকবে । তাই সব দিক বিবেচনায় আপনাকে পুষ্টিকর খাবার
খেতে হবে ।
ব্যায়াম করতে হবে
গর্ভাবস্থায় আপনি যদি শুয়ে বসে থাকেন, তাহলে আপনার শরীর আরো বেশি খারাপ
হয়ে যাবে । গর্ভাবস্থায় আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাহলে আপনার
শরীর অনেক ভালো থাকবে । হ্যাঁ, অনেক সময় কিছু মানুষের বিভিন্ন ধরনের
সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে ডাক্তার পরামর্শ দেয় একদম রেস্টে থাকার জন্য ।
সেক্ষেত্রে আপনি রেস্টে থাকতে পারেন ।
কিন্তু আপনার যদি কোন সমস্যা না থাকে, আপনি যদি সুস্থ থাকেন, তাহলে আপনি
নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন । একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষও ব্যায়াম করলে
সুস্থ থাকে । আর গর্ভাবস্থায় আপনি যদি সুস্থ থাকেন তাহলে আপনিও নিয়মিত
ব্যায়াম করতে পারেন । এতে আপনার শরীর ভাল থাকবে । আর নরমাল ডেলিভারিও সম্ভাবনা
থাকে ।
সিজারের পর রেস্ট করতে হবে
আপনার যদি নরমাল ডেলিভারি হয় সেক্ষেত্রে আপনি দু চার দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে
যেতে পারেন এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন । কিন্তু যদি আপনার সিজার করে
বাচ্চা হয় সেক্ষেত্রে আপনাকে অনেক রেস্টে থাকতে হবে । কারণ আপনার পেটের ৭ টা
পর্দা কাটার পর আপনার ডেলিভারি করা হয় । সেক্ষেত্রে আপনাকে অনেক সাবধানে থাকতে
হবে এবং রেস্ট করতে হবে ।
আরও পড়ুন ঃ সিজারের পর কতটা নিরাপদে থাকতে হয়
আপনি যদি রেস্টে না থাকেন, তাহলে পরবর্তীতে অনেক সমস্যায় পড়বেন । কারণ আপনার
পেটে কাটা ঘা থাকে । সেই ঘাটা শুকাতে নিম্নে দুই মাস সময় লাগে । তাই আপনাকে এই
দুই মাস অনেক সাবধানে চলাফেরা করতে হবে এবং যতটা সম্ভব রেস্টে থাকতে হবে । তবেই
আপনি সুস্থ হতে পারবেন । তাই যতটা সম্ভব রেস্ট করতে হবে ।
সিজারের পর সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা যাবে না
সিজার করে বাচ্চা হওয়ার পর আপনি ভুলেও সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করবেন না বা
উঠানামা করা যাবে না । এ সময় সর্বোচ্চ আপনি যতটুকু পারেন রেস্টে থাকার চেষ্টা
করবেন । সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা তো অনেক দূরের কথা । এসময় আপনি এমনিতেও চলাফেরা
করতে পারবেন না । আপনাকে যতটা সম্ভব রেস্ট করতে হবে ।
আপনি বেশি হাঁটাচলা করলে আপনার পেট ব্যথা করবে । আরো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা
দিবে । কারণ সিজারের পর পেট কাটা থাকে, আর সেই ঘা শুকাতে অনেক সময় লাগে
। তাই কাঁটা ঘা না শুকানো পর্যন্ত আপনাকে অনেক সাবধানে চলাফেরা করতে হবে
। আপনি কখনো ভুলেও সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করবেন না ।
শেষ কথা
পরিশেষে একটা কথাই বলবো, আপনার যদি কোন সমস্যা না থাকে, ডাক্তার যদি বলে আপনি
সুস্থ আছেন, সেক্ষেত্রে আপনি সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করতে পারেন । কোন সমস্যা হবে
না । কিন্তু যদি আপনার কোন সমস্যা থাকে, ডাক্তার পরামর্শ দেয় যে, আপনাকে
রেস্টে থাকতে হবে, সেক্ষেত্রে সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা না করাই ভালো ।
আমার যতটুকু জানা আছে, তার সবটুকু দিয়ে লিখেছি । কোন ভুল ত্রুটি হলে মাফ করবেন
। আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন । সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন ।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url